‘কোনো কোনো মৃত্যু পাহাড়ের মতো ভারী’ | The Background

Monday, August 2, 2021

Contact Us

Google Play

Breaking News

‘কোনো কোনো মৃত্যু পাহাড়ের মতো ভারী’

গৌতম চৌধুরী

ছটফটে মেয়েটির সঙ্গে আর কোনদিন দেখা হবে না, এটা আমি ভাবতেও পারছি না।
ক্লাস ফোরে পড়ার সময় মেয়েটি বাবাকে হারাল পথ দুর্ঘটনায়, যে বাবা ছিলেন তার বন্ধু আর স্বপ্ন দেখানোর ম্যাজিসিয়ান। দেখাতেন মেয়েকে এক সুন্দর পৃথিবীর স্বপ্ন যেখানে সকলে সমান, সকলেই খুশি আর পরস্পরের বন্ধু। কেউ কষ্টে থাকে না, কেউ কাউকে কষ্ট দেয় না। কিন্তু সেটা তো এখন নেই! সেটা গড়তে হবে।কেমন করে? অসংখ্য প্রশ্ন শিশুর। বাড়িতে আসত সোভিয়েত দেশ আর অন্য নানা সমাজতান্ত্রিক পত্রপত্রিকা। অনেক গল্পের বই, বাংলা ইংরেজি সব। সব গোগ্রাসে গিলত সেই ছোট্ট মেয়ে। সরকারি ডাক্তার সেই বাবার হাত ধরে ঘটে চলত তার পৃথিবীর সঙ্গে পরিচয়, তৈরি হত পৃথিবীকে দেখার চোখ। এমন সময় বাবা হারিয়ে গেলেন।
মায়ের হাত ধরে সেই এক মাত্র সন্তান দুর্গাপুর থেকে চলে এলো কলকাতায়। বাবাকে হারিয়ে বড় কষ্টের সেইদিন গুলো। মা ছিলেন স্কুল শিক্ষিকা। তিনি পরে স্বেচ্ছাবসর নেন। কলকাতায় এসে শর্মিষ্ঠা ভর্তি হল কনভেন্ট স্কুলে। ধীরে ধীরে বুঝে নিল, লড়াই করেই বাঁচতে হবে এই পৃথিবীতে। বিশেষ করে এই সমাজে নারীদের যে দ্বিগুণ শোষণ, অত্যাচার আর অসম্মান ভোগ করতে হয়, তা তাকে অস্থির করে তুলত। স্কুলের পরে এলো প্রেসিডেন্সি কলেজে, দর্শন শাস্ত্র নিয়ে পড়তে। প্রায় এসে এসেই হৈচৈ বাধিয়ে দিল। কয়েক বন্ধু মিলে বের করতে লাগল ‘নেহাই’ পত্রিকা। তাতে প্রধানত মেয়েদের যন্ত্রণার কথাই থাকত। কলেজে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ছিল। তাদের সঙ্গে আলোচনা হত, ‘ঝগড়া’ হত, কিন্তু সে কোনোটাতেই যোগ দেয়নি। একবার একাই ছাত্র সংসদের নির্বাচনে দাঁড়িয়ে গেল। শর্মিষ্ঠা একাই পোস্টার লিখে দেয়ালে সাঁটত, একাই স্লোগান দিতে দিতে ‘মিছিল’ করত। জানা গেল তার বন্ধুদের কাছ থেকে। পরে সে কলেজের PCSA (Presidency College Students’ Union)-তে যোগ দেয়, আর সাথীদের নিয়ে একবার ছাত্র সংসদ দখলও করে। সেটা ছিল ১৯৯৫-৯৬ নাগাদ।
উদ্দাম-উচ্ছৃঙ্খল-খ্যাপা-ঝগড়ুটে-দুরন্ত। সব জায়গায়—রাস্তায়, বাসে, ট্রেনে—ঝগড়া বাধিয়ে বসত। অন্যায় আর অসাম্যের এই ব্যবস্থার প্রতি পদে অবিচার—মুখ বুঁজে দেখে যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব হত না। অসম্ভব সাহস,মেধা, তীক্ষ্ণবুদ্ধি। আর কোথাও কোনো বাধাকে মানতে রাজি নয়। সবই করে দল বেঁধে। দল বাধার ক্ষমতায়ও ছিল অদ্বিতীয় এই আড্ডাবাজ। এই কাউকে ঝেড়ে গাল দিচ্ছে, পরমুহুর্তেই তার সাথে আড্ডায় হেসে লুটিয়ে পড়ছে। ফাজিল, ছ্যাবলা। বন্ধুরা আদর করে বলত ‘থেচু’। কারণ, একবার প্রিন্সিপ্যালের ঘরে ঢুকতেই তিনি বলে উঠলেন, “এই যে এলেন মার্গারেট থ্যাচার”। বিএ পাশ করল প্রথম হয়ে।
এরপর এম.এ করল সাংবাদিকতা (journalism) নিয়ে। পাশ করেই টেলিগ্রাফ কাগজে যোগ দেয়। ইতিমধ্যে, নকশালপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়। ১৯৯৮ সালে গড়ে ওঠে CCR (Centre for Communist Revolutionaries)। শর্মিষ্ঠা তাতে যোগ দেয়। সেইসময়েই আমার সাথে আলাপ। কিছু পরে আমিও যোগ দিই। এদিকে, ২০০২ সালে রাজনৈতিক আর মতাদর্শগত কারণে সংগঠন ভেঙে যায়, তৈরি হয় CCR(ML)। ২০০২ সালেই মা-কে ছেড়ে সে বেরিয়ে এলো পার্টির সর্বক্ষণের কর্মী হিসেবে। মা ভীষণ কষ্ট পেয়েছিলেন। মেয়েও কম কষ্ট পায়নি, কিন্তু তাই বলে বৃহত্তর জগতের ডাক কে উপেক্ষা করা তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। মুখে কিন্তু তার সেই বিখ্যাত হাসিটা লেগেই থাকত, কষ্টের লেশমাত্র নেই। কখন শর্মিষ্ঠা বেরিয়ে এলো? এক বন্ধ্যা সময়ে যখন আন্দোলনে ভাটা চলছে। সে সময় হোলটাইমার হবার ‘দুর্বুদ্ধি’ কারুর হত না। বিপ্লবের জন্য মোটা মাইনের লোভনীয় চাকরি ছেড়ে নির্দ্বিধায় বেরিয়ে আসাটা তখন পাগলামির সামিল ছিল। ২০০৩ সালে বিয়ে করল অলিককে। মায়ের তীব্র আপত্তি সত্বেও। অনেকেরই আপত্তি ছিল। শর্মিষ্ঠা কিন্তু তার সঙ্গী বাছাইয়ে একটুও ভুল করেনি। সে আর এক অধ্যায়।
২০০৪ সালে সে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মানবী বিদ্যায় (Women’s Studiesএ) M.Phil করল। অলিকের বাড়ি দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুর থানার আদিবাসী অধ্যুষিত এক অজ পাড়াগাঁয়ে। CCR এ যোগ দেবার সময় থেকেই শর্মিষ্ঠার সেখানে যাতায়াত। অগম্য কাঁচারাস্তা, যানহীন। বাড়িতে বিদ্যুৎ নেই, বাথরুম নেই, কুঁয়ো পায়খানা। শর্মিষ্ঠার তাতে বয়েই গেছে। কারুর বাড়িতে গিয়ে বাড়ির একজন হয়ে উঠতে ওর বোধহয় পাঁচ মিনিটও লাগত না। গ্রামজুড়ে হৈ হৈ করে ঘুরে বেরানো, মেয়েদের সচেতন করার কাজ, আর সংগঠনের নেতৃত্বে ধানের মিল আর তেলকলের শ্রমিকদের নিয়ে সংগঠন গড়া ছিল ওর কাজ। আর পড়াশোনা, লেখালেখি।পড়া ছিল ওর অক্সিজেনের মত।
কলকাতায় ফিরে এসে প্রচুর সাংগঠনিক কাজ, লেখালেখি, নারী সংগঠন গড়ে তোলা; খড়দা জুটমিলের শ্রমিক-মহল্লা, সেখানেও সংগঠন গড়ে তোলা। নিত্যদিন ঝামেলা। মাসের পর মাস ভয়ঙ্কর কষ্ট করে শ্রমিকদের আস্থা অর্জন করা, মহল্লায় জনপ্রিয়তা অর্জন করা। শেষে মহল্লার সক্কলের দিদি। সর্বত্র স্বচ্ছন্দ যাতায়াত, আনন্দ ছড়িয়ে। পারব না, হবে না, অসম্ভব, এসব উড়িয়ে দিত। অন্যদেরকেও তাড়িত করত। পারো না তো শিখে নাও! জানো না তো জেনে নাও! সবই যেন জলভাত।
ট্রেড ইউনিয়ন গড়ে তুলল ম্যানেজমেন্টের পেটোয়া অন্য TUগুলোর হুমকি আর তাদের ভীষণ বাধা পেরিয়ে। খুন হয়ে যাবার ভয় সবসময়। কুছপরোয়া নেহি। ও কখনো ভয় পেতো না। মনে হত, ভয়ই বুঝি ওকে ভয় পায়। শ্রমিকদের সংগঠিত করে ওরা লড়াই গড়ে তোলে। দীর্ঘদিন ধরে চলে VRS বয়কট করার কঠিন, কষ্টকর সেই লড়াই। এরপর টিটাগড়ের লুমটেক্স জুটমিলে সংগঠন গড়া (লুমটেক্স সংগ্রামী মজদুর ইউনিয়ন), মালিক গোবিন্দ সারদার সঙ্গে তুমুল ঝামেলা। এই মালিকেরা শ্রমিকদের পেনসন, গ্রাচুইটি, প্রভিডেন্ট ফান্ড কিছুই দিত না। চরম বেআইনিভাবে। কি বামফ্রন্টের আমলে, কি তৃণমূলের আমলে। এদের পেটোয়া সংগঠনগুলি এদের রক্ষা করত, বিনিময়ে মাসোহারা পেত। সিপিএম সাংসদ তড়িৎ তোপদারের একচ্ছত্র রাজত্ব। মালিক সংগ্রামী মজদুর ইউনিয়ন-এর ওপর দেয় খুনের কেস, অলিক শঙ্কর আর জনা পঁচিশেক শ্রমিক গ্রেফতার হন। থানা উকিল আদালত বহু ছুটাছুটি করে টাকা জোগাড় করে সবাইকে ছাড়িয়ে আনা হয় শর্মিষ্ঠার নেতৃত্বে। দীর্ঘদিন কেস চলে। কমরেডদের জেল থেকে বের করার পর আবার লড়াই। ইতিমধ্যে কারখানার প্রায় সমস্ত শ্রমিক সমর্থন করছেন সংগ্রামী মজদুর ইউনিয়নকে। জুটমিল বন্ধ করার বিরুদ্ধে সব দালাল ইউনিয়ন সহ সবাই কে নিয়ে (শ্রমিকদের চাপে তাদের আসতে বাধ্য করে) যৌথ কমিটি গড়ে দীর্ঘদিন ধর্না। তাতেও কাজ না হলে শর্মিষ্ঠার নেতৃত্বে খড়দা রেলস্টেশনে রেল অবরোধ হয় প্রায় এগারো ঘন্টা। অ্যাসিস্ট্যান্ট লেবার কমিশনার, লেবার কমিশনার পেরিয়ে শেষে বড়কর্তা জুট কমিশনারের সঙ্গেও বাধে তীব্র লড়াই। মালিকের ধূর্তামিতে, সরকারের প্রশ্রয়ে শেষ পর্যন্ত মিল বন্ধ হয়ে যায়।
এর মধ্যেই ট্যুইশন, প্রুফ দেখা। আর সবই করত প্রাণবন্তভাবে। ঘুমছিল খুব কম, ঘুমাতেই হবে—এরকম “কুসংস্কার” ওর ছিল না। সাধারণত ভোরের দিকে ঘুমাত, ফলে দেরিতে উঠত। অবশ্য কাজ থাকলে অন্য কথা। ও ছিল নেশাগ্রস্ত পড়ুয়া। সবধরণের বই পড়ত। যেহেতু ওর সঙ্গে থাকত অলিক, ফলে রাজনৈতিক-মতাদর্শগত আলোচনায় সুবিধা হত। পরে যোগ দেয় শঙ্কর। তাতে আলোচনা, কাজকর্ম সবদিক দিয়েই আরো জমে ওঠে। ও সর্বক্ষণের কর্মীর ভাতা(allowance) নিতো না, উল্টে পার্টিকে প্রচুর টাকা লেভি দিত। পার্টির লেভি সংগ্রহ অভিযানও সংগঠিত করত। ওকে কোথাও হেরে ফিরতে দেখিনি। একরোখা, জেদি, অবিচল। পার্টির মধ্যে বিতর্কে, বাইরের সংগঠনের সঙ্গে, প্রশাসনের কর্তাদের সঙ্গে, কোথাও না। কারুর সঙ্গে আলোচনায় নিজের পয়েন্টটা সে সহজেই দাঁড় করিয়ে দিতে পারত। ফলে শর্মিষ্ঠা মানেই জয়—আমাদের অভ্যাস হয়ে গেছিল। আসলে বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান, তীক্ষ্ণবুদ্ধি, প্রচণ্ড সাহস আর তীব্র আবেগ, এই ছিল তার পুঁজি। অদ্ভুত ব্যাপার, ভয় নামক বস্তুটা ওর আদৌ ছিল না, কোথাও না। রাজনৈতিক আলোচনায় ছিল ভীষণ তীক্ষ্ণ, কখনো তীব্র আক্রমণাত্মক। ভিন্ন মতের সঙ্গে আলোচনায় ছিল দৃঢ়, কখনো রূঢ়। কিন্তু কখনোই ব্যক্তিগত সম্পর্কে তা ছাপ ফেলত না। বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে ওর ছিল দারুণ আন্তরিক সম্পর্ক। কেউ ওকে ‘পর’ ভাবত না। মহিলা সংগঠনগুলোর সবগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করার দায়িত্ব সে নিয়েছিল, এবং খানিক সফলও হয়েছিল। ২০০৯ সালে গড়ে ওঠে AIRWO (All India Revolutionary Women’s Organisation)। তাকে এক সর্বভারতীয় সংগঠনে পরিণত করে। পরে গড়ে তোলে World Women’s Conference। তাতে ইউরোপ, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা আর এশিয়ার অনেকগুলি দেশের নারী সংগঠন সমবেত হয়। সে কারাকাস (ভেনেজুয়েলা), নেপাল ও জার্মানিতে এর সম্মেলনগুলিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয় এবং সর্বশেষ সম্মেলন সংগঠিত করে ব্যাঙ্গালোরে।
কারুর গোমড়া মুখ সহ্য করতে পারতো না। আড্ডাবাজ, পেছনে লাগা, ফাজলামি, মজা করা, সবসময় চলত। চলত সব্জি কাটতে কাটতে, রান্না করতে করতে, পড়াশোনার ফাঁকেও। হঠাৎ থেমে গিয়ে জরুরি সিরিয়াস আলোচনা। ভেতরে ভেতরে যেন ছটফট করত সবসময়।
অনেক গুরুত্বপূর্ণ তাত্ত্বিক প্রবন্ধ লিখেছে শর্মিষ্ঠা, যা পার্টিকে দারুণভাবে সমৃদ্ধ করেছে। পৃথিবী জুড়েই নয়া-উদারবাদী উন্নয়নের ধাক্কায় সংগঠিত শিল্প উঠে যাচ্ছে। ফলে এদেশে শ্রমজীবীদের প্রায় ৯৫ শতাংশ এখন রয়েছেন অসংগঠিত ক্ষেত্রে। শর্মিষ্ঠা ঐ অসংগঠিত ক্ষেত্রেই কাজ করতে শুরু করেছিল, সংগঠন গড়তে চেয়েছিল। কোনো বাধা মানতে ও রাজি ছিল না। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে “ফ্যাসিস্ত বিজেপি ও আরএসএস-এর বিরুদ্ধে বাংলাঃ বিজেপিকে একটিও ভোট নয় (Bengal Against Fascist RSS & BJP : No Vote to BJP) আন্দোলন গড়ে তোলে, ও ছিল তার অন্যতম আহ্বায়ক এবং এক বিপুল জনমত টেনে আনে এর পক্ষে।
ভাঙ্গড় আন্দোলন ছিল পাওয়ার গ্রিড বসানোর বিরুদ্ধে গণ-আন্দোলন। গ্রামে গ্রামে মানুষ সংগঠিত হয়েছে, চমৎকার গণতান্ত্রিকভাবে কমিটি গড়েছে, মিছিল করেছে। লক্ষ্যণীয় হল মহিলাদের অংশগ্রহণ। পুলিশ রাতে গ্রামে ঢুকতে চায়, মহিলারা প্রাচীর হয়ে দাঁড়ায়। দিনেরবেলাও ঢুকতে পারে না মানুষের প্রতিরোধে।গুণ্ডাবাহিনী আর পুলিশের আক্রমণের বিরুদ্ধে গ্রামবাসী অসমসাহসে প্রায় খালি হাতে প্রতিরোধ করে। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে বিশাল পুলিশবাহিনী আক্রমণে নামে। প্রায় লাখখানেক গ্রামবাসী তাদের ঘিরে ফেলে। কিন্তু তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। অথচ তারা দুজন গ্রামবাসীকে হত্যা করে আর অনেককে অ্যারেস্ট করে নিয়ে যায়। তারপরেও গ্রেপ্তার চলতে থাকে। পুলিশ আর গুণ্ডারা অর্থনৈতিক অবরোধ সৃষ্টি করে। ওদিকে প্রায় গোটা নেতৃত্ব ধরা পড়ে। শর্মিষ্ঠাসহ মোট নয় জনকে UAPA আইনের ধারায় মামলা দেওয়া হয়, যে সংখ্যাটা দেশে একটা নজির। ছ’মাস পরে শর্মিষ্ঠা জামিনে ছাড়া পায়। অবশেষে এক আলোচনা ও গ্রামবাসীর দাবি মেনে চুক্তির মধ্য দিয়ে আপাতত এই আন্দোলনের পরিসমাপ্তি ঘটে।
খেতে ভালোবাসত সে। নেমন্তন্ন আদায় করেও নিত। কিন্তু খাওয়াদাওয়াতে anarchy ছিল চূড়ান্ত। দীর্ঘক্ষণ খিদে চেপে থাকত, কারণ পকেটে পয়সা থাকত না। প্রায়শই তেমন ঘটত। পয়সা পেলে সে ভাতের বদলে কচুরি, তেলেভাজা, চাউমিন খাবে। আর অদ্ভুত, তেতো খেতে খুব ভালোবাসত। গোটা গোটা করলা সেদ্ধ খেতে দেখেছি পরিতৃপ্ত মুখে। আর পয়সার অভাবে ইউ টিউবের রেসিপি দেখে তৃপ্তি পেত। বন্ধুদেরও বলত রেসিপি পাঠাতে। দীর্ঘদিন ভাত খেত চামচ দিয়ে, ওর পুরানো অভ্যাস ছাড়তে পারেনি। পরে অবশ্য হাতে উত্তরণ ঘটেছিল।
‘কোনো কোনো মৃত্যু পাহাড়ের মতো ভারী’-শর্মিষ্ঠার অকালে চলে যাওয়া প্রতিক্ষণ সেটা উপলব্ধি করাচ্ছে।

Facebook Comments