রাণা আইয়ুব কেন চক্ষুশূল? | The Background

Saturday, October 16, 2021

Contact Us

Google Play

Breaking News

রাণা আইয়ুব কেন চক্ষুশূল?

আবু সঈদ আহমেদ

করোনা ভাইরাস সংক্রমণের চেয়েও যেন জোরগতিতে ছড়িয়ে পড়েছে সাংবাদিক রাণা আইয়ুবের একটি ট্যুইট নিয়ে বিতর্ক। রাণা আইয়ুব লিখেছিলেন  “What is left for a virus to kill in a morally corrupt nation” যার মানে “একটা নৈতিক দুর্নীতিগ্রস্ত জাতিতে ভাইরাসের মেরে ফেলবার জন্য আর বাকি কি আছে?”

যে দেশে একশতে নিরানব্বই বেইমান, সেই দেশের মানুষ বলে মেরা ভারত মহান। সেটা আবার লেখা থাকে ট্রাকের পেছনে।  মার্কণ্ডেয় কাটজুর ভারতীয় জাতির বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে তির্যক মন্তব্য আছে। এরকম উদাহরণ একাধিক আছে। সে নিয়ে এরকম জলঘোলা হয়না, কিন্তু রাণা আইয়ুবকে নিয়ে কেন? শুধুই কি ট্যুইট নাকি রাণা আইয়ুবকে নিয়ে তাঁর সমালোচকদের অন্য সমস্যা?

রাণা আইয়ুব চেনা বেঁধে দেওয়া ছবিতে আসেন না। কোন মুসলিম তরুণীর যে নিজস্ব কণ্ঠ থাকতে পারে এই ব্যাপারটাই যেন অনেকের কাছে অপ্রত্যাশিত। মুসলিম নারী বললেই মূলস্রোতের প্রচারদুনিয়ায় নিপীড়ণ, নিষ্পেষণের ছবি উঠে আসবে এটাই ভেবে রাখা হয় সেখানে একজন এইভাবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রাপ্ত তরুণী। তাও আবার হিজাবশোভিত নন বলে তাঁকে গোঁড়ামোর চেনা ছকে বাঁধাও যায়না, এটা তাঁর সমালোচকদের কাছে আরও সমস্যার। একমাথা কোঁকড়াচুল ও পশ্চিমী পোশাকে কেউ বহুলপ্রচারিত মোল্লাতন্ত্রের চেনা স্টিরিওটাইপ নিয়ে গলা না তুলে হিন্দুত্বের প্রকাশ্য ও চোরাগোপ্তা আক্রমণকে বেনাকাব করবেন সেটা আরও অপ্রত্যাশিত। এই অপ্রত্যাশাই ফুটে বেরিয়ে আসে তাঁর সমালোচনার ঝড়গুলিতে।

অন্য দিকে রাণা আইয়ুবের কর্মকান্ড ভারতের চেনা ছবির পরিপন্থী। সেই ছবি যেখানে ঐতিহ্যের আড়ম্বর ঢেকে দেয় যুগযুগ ধরে অনাচারের শিকার সাফাইকর্মীর ব্যথা। সেই ছবি নেহরু-গান্ধী-আম্বেদকর-আজাদের পাদপ্রদীপের অন্ধকারেই থেকে যায় জম্মু-মোরাদাবাদ-নেলী-হাসিমপোরার রক্তমাখা অলিগলি। রাণা আইয়ুব সেই অলিগলিকেই তুলে ধরেন তাঁর লেখনীতে। প্রাণ বিপন্ন করেও তাঁর সাংবাদিকতা ভুলে যেতে দেয়নি গুজরাটের অন্ধকার সময়কে। তেমনই তাঁর সাহসী কলমচারণা বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেছে দিল্লিহিংসার অপ্রিয় সত্যকে। আর সেটাই ধাক্কা দিয়ে যায় মূলস্রোতে গা ভাসিয়েও উদারপন্থার মুখোশধারীদের। আর এজন্যই রাণা আইয়ুব সমালোচিত।

 

Facebook Comments