‘মেলাবেন তিনি মেলাবেন’ | The Background

Monday, November 29, 2021

Contact Us

Google Play

Breaking News

‘মেলাবেন তিনি মেলাবেন’

নাজিব আনোয়ার

সম্প্রতি পশ্চিমবাংলায় মুসলমানদের উপর আক্রমণ উত্তরোত্তর বেড়ে যাচ্ছে। মুসলমানদের লক্ষ্য করে হামলা, মামলা, এমনকি গণপিটুনিও ইতিউতি ঘটছে। এই তো গত মাসের ২৭ তারিখের ঘটনা। কোচবিহারের কোতোয়ালি থানার উত্তর খাপাইডাঙা গ্রামে স্থানীয় এক মসজিদের ইমাম মৌলানা হাবিবুর রহমান; সন্ধ্যার মুখে বাড়ি ফিরছিলেন একটি ধর্মীয় জলসা সেরে। সঙ্গে আরো দুজন ছিলেন। হঠাৎ তাঁদের ঘিরে ফেলল কয়েকজন মানুষ তীর ধনুক নিয়ে। একটি তীর বিঁধে গেল মৌলানার ডানদিকের বুকের নিচে। তিনি লুটিয়ে পড়লেন মাটিতে।

এটা কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গত আগস্ট মাসে দক্ষিণ ২৪ পরগণার সোনারপুরের এক গ্রামে বেধড়ক মার খেলেন পুলিশ কর্মী সুরাফ হোসেন। আশ্চর্যের বিষয়, তিনি আক্রান্ত হয়েছিলেন একদল পুলিশের হাতেই। আরো আশ্চর্যের বিষয়, এই পুলিশগুলির মুখের ভাষা। কদর্য সাম্প্রদায়িক খিস্তি-খেউড়।

রক্ষকই ভক্ষক। এই আপ্তবাক্যটি মইদুল ইসলাম ভালই টের পেয়েছেন। ধারাবাহিকভাবে হেনস্থার শিকার হচ্ছেন এই লড়াকু শিক্ষক। তাঁকে বারবার পুলিশি হেফাজতে যেতে হচ্ছে। মাঝ্ররাতেও পুলিশ ধাওয়া করছে তাঁর শ্বশুরবাড়ি অবধি। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তীতে এক মুসলমান ব্যক্তিকে গণপ্রহার করা হয়েছে।

উদাহরণ বাড়িয়ে লাভ নেই। এইরাজ্যের বেশিরভাগ বুদ্ধিজীবী এইসব বিষয়ে চুপ থাকাই ভালো মনে করেন। গত কয়েকদিনের সংবাদপত্র তন্নতন্ন করে খুঁজুন। কোচবিহারের এই ঘটনা খবরে উঠে আসেনি। মৌলানা হাবিবুর রহমানের উপর এই আক্রমণ একটি জঘন্য ঘটনা। শাসক দল ও পুলিশ প্রশাসন এটিকে ধামাচাপা দিতে মরিয়া। ফলে খবরের শিরোনাম থেকে উধাও। মমতা বন্দোপাধ্যায়ের আমলে মুসলমানরা বড়ই সুখে দিন কাটাচ্ছেন। বুদ্ধিজীবীরা পুরস্কার পাচ্ছেন। সাহিত্য সম্মেলন করছেন। ভুরি ভুরি গল্প উপন্যাস লেখা হচ্ছে। কেউ কেউ ফেসবুকেও ধারাবাহিক গল্প পোস্টিয়ে যাচ্ছেন। মুসলমান সমাজের অন্দরমহলের আনাচে কানাচের ধারাবিবরণী। কেউ কেউ ‘মেলাবেন তিনি মেলাবেন’ বলে স্বপ্নের জাল বুনছেন। এরমধ্যে কিছু ভেকধারীও আছেন। ভুলেও এঁরা মৌলানা হাবিবুর রহমানের উপর আক্রমণের কথা উচ্চারিত করবেন না। সুরাফ হোসেনও তাঁদের কাছে ব্রাত্য।

কভার ফটো- আহত মৌলানা হাবিবুর রহমান। ট্যুইটার। 

Facebook Comments