আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি? | The Background

Saturday, October 16, 2021

Contact Us

Google Play

Breaking News

আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি?

আবু সিদ্দিক

একমাত্র অন্যকে মুক্ত করেই মানুষ নিজের মুক্তি অর্জন করতে পারে।  —আহমদ ছফা, পুষ্প বৃক্ষ এবং বিহঙ্গ পুরাণ 

বাংলাভাষী মানুষদের একটি জাতি হিসাবে গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে ১৯৪৭ সালের দেশভাগ সবচেয়ে বড় আঘাত। মধ্যশ্রেণীটি গড়ে উঠেছিল অবিভক্ত বাংলার দশ শতাংশের কম লোককে (পড়ুন ভদ্রলোককে) নিয়ে। এই রকম ছোট একটি অংশের স্বার্থ, অভ্যাস, জীবনযাত্রার ধরন ও মানসিকতাকে ব্যাপক মানুষের উপর চাপিয়ে দিয়ে জাতি গঠন হয় না, বরং জাতি গঠনের প্রক্রিয়া গুরুতর ভাবে বিঘ্নিত হয়। বাংলার ক্ষেত্রে তাই হয়েছে। দশ শতাংশের কম মানুষেরর স্বার্থ বাঙালির স্বার্থ বলে উপস্থাপিত হল। ধুতি-পাঞ্জাবি বাঙালির জাতীয় পোশাক (বহু বাঙালি মানু্ষ জীবনে ধুতি-পাঞ্জাবি পরেননি), দুর্গাপূজা বাঙালির জাতীয় উৎসব হল (জনসংখ্যার এক চতুর্থাংশ মুসলমানদের বাদ দিয়েই।) কমিউনিস্ট ‘ভদ্রলোক’ জ্যোতিবাবু, বুদ্ধবাবু ঐ মধ্যশ্রেণীর ধারারই এক্সটেনশন মাত্র।(সন্তোষ রাণা, প্রবন্ধ সংগ্রহ, গাংচিল ২০১৯, পৃষ্ঠা ১৬১)

ভুরি ভুরি চাষ হয়েছে বাংলার হিন্দু-মুসলমানের সহাবস্থানের, সহমননের, সহঐতিহ্যের, সহচলনের, সহবলনের মাঠ। প্রথম যুগে গোবর দিয়ে হতো। এখন রাসায়নিক সার ও নির্বিচারে বিষ প্রয়োগ করে হয়। ফলে জমির উর্বরতা নষ্ট হয়েছে অনেক কাল আগেই। কিন্তু আমাদের চাষ ছাড়া অন্য কাজ জানা নেই। তাই বাধ্য হয়েই অনুর্বর ভূমি চাষ। নজরুলের ‘একই বৃন্তে দুটি কুসুম’ গেলো, বিবেকানন্দ গেলো তার  ‘বৈদান্তিক মাথা আর ইসলামিক শরীর’ নিয়ে। ক্ষিতিমোহন সেন গেলো, রেজাউল করিম গেলো। লৌকিক ইসলামের কেরামতি গেলো। সুফি ও বৈষ্ণবদের সহজিয়া গেলো। বাংলার রেনেসাঁ গেলো। এবং যাদের নাম আমি জানি না, এবং যেসব পথ দিয়ে হাঁটার সৌভাগ্য হতে আমি বঞ্চিত সেসব আধুনিক-অনাধুনিক পথ ও পথের প্রদর্শকদের কথা মাথায় রেখে বলি এই চাষের মধ্যে এক মস্ত ফাঁকি আছে। নছিয়তে, হরে কৃষ্ণে সহাবস্থান হয় না। হয় না যেমন সমন্বয়, সহজিয়া, সহমত, শুধু প্রচার ও প্রকাশে। তবে কিসে?

আসুন একটা গল্প শুনি। বেঁধে বেঁধে থাকার নমুনা পেশ করি। এক মুসলমান যুবক ও যুবতী ভালবেসে বিয়ে করে। গ্রামে সুবিধা সুযোগ নেই বলে শহরে এলো। ভাড়া পেলনা কোথাও মুসলমান বলে। অবশেষে বাবুপাড়ায় পেলো তাদের এক পরিচিত বন্ধুর রেফারেন্সে। নাম ছিলো মাসুমা আর জলিল। এখন হলো মৌসুমি আর জলি।  মা এলো দ্বারে। বাতাসে শিউলির গন্ধ, আর শ্মশানে কাশফুল ফুটিল। আর সৌরভে অলির দল মলে মলে জুটিলো। আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে! আসিলো চাঁদার লোকবল। জলি না থাকাতে মৌসুমি পরে আসতে বলে লোকবলদের, আর দরজা বন্ধ করতে উদ্যত হলে লোকবলের নেতা মন্তব্য করে, “কোথা থেকে সব কার্টুন পিস আসে! মায়ের চাঁদা দেবে তাও আবার…”

মাসুমা আর জলিল গ্রামের ভালো ঘরের ছেলেমেয়ে। জলিল চাকরি করে। মাসুমা লেগে আছে। গ্রামে তারা বড়লোক বলে সবাই মানে ও জানে। চারচাকা, দোতালা বাড়ি, পুকুর, জমি এসব সবই আছে। ফ্ল্যাট নেবে এরা। কিন্তু দুম করে তো হয় না। তাছাড়া ফ্ল্যাটেও মুসলমানদের একরকম না। তাই ভাড়াটে। তালবাগান, আমবাগানে জমি কিনে হয়তো বাড়িও করবে। কিন্তু ওদের আবার মিউনিসিপালিটিতে থাকার ঝোঁক। শহরে এসে পঞ্চায়েতে বাস! ঠিক মেনে নিতে পারেনি। তাই এখনও বাবুদের পাড়ায়…

এখন কথা হলো যারা মুসলমানদের বাড়িভাড়া বা ফ্ল্যাট দেয় না, যারা মুসলমানদের ট্রেনে বাসে পাড়ার মোড়ে, চায়ের দোকানে কথায় কথায় তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে, গালি দেয়, পারলে লুঙ্গি খুলে নেয়, এরা সব কি আরএসএস-এর লোক? তাহলে তো মাথাব্যাথা ছিলো না। কারণ বেঁধে বেঁধে থাকার কথা তাদের সংবিধানে তো নেই। এতো হাইলি কালচারাল বাবুদের কথা। যারা লিবারেল বলে গলা ফাটিয়ে রক্ত বের করে। যারা মানুষের জয়গান গেয়ে কবিতা গল্প লেখে। যারা সকালে সন্ধ্যায় রবীন্দ্র-নজরুল খাওয়ার ভান করে। যারা বিশ্বসাহিত্য ও পাশ্চাত্য সঙ্গীত নিয়ে সভা তোলপাড় করে। কল্পবিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা করে। এরাই ছোটলোকদের পাথেয় করে। এরাই ছোটলোকদের ঘৃণা করে। মাসুমা আর জলিলের এন্ট্রি নেই বাবুদের পাড়ায়। কারণ পাড়াটা বাবুদের। তাই তো নাম বাবুপাড়া। থাকতে হলে বাবুদের কথায় উঠবোস করতে হবে। করছেও অনেকে। যেটিকে আমার এক বন্ধু বলে, ‘সিংহের দলে ছাগল হয়ে থাকা।’ সে রাজি নয়। ফলে তার স্থান হয়েছে আমবাগানে। আর যারা রাজি তারা বহাল তবিয়তে আছে। আপনি দেখে  বুঝতেই  পারবেন না এখানে কয়েকঘর বাঙালি মুসলমান আছে। নামের বদল, ক্লাবের সদস্য, প্রসাদ ভাগ করে খাওয়া। দিব্য আছেন। যেমন করে ছাগলেরা থাকে। কিন্তু ছাগল পাতা না পেলে ম্যা ম্যা করে জানান দেয়। এদের ম্যা ম্যা করারও ক্ষমতা নেই। নির্বাক ছাগল! পা জুবুথুবু। চোখ ফ্যাল ফ্যাল।

একুশের ভোটের আগে এনআরসি’র হাওয়া বাংলার বাতাসে নতুন এক উন্মাদনা এনেছিলো। হিন্দুত্বের ঝড়ো হাওয়াই বাংলার মুসলমানরা উড়ে যাওয়ার উপক্রম। শহর আধাশহর, গ্রাম এঁদোগ্রাম নির্বিশেষে সব এলাকার ছবি এক। জয় শ্রীরাম। ভারত মাতা কি জয়। স্বাধীনতার পর এমনকি বিরানব্বয়ের বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দিনগুলিতেও এই উগ্র হিন্দুত্বের ঝড়ের এত বেগ ছিলো না। একথা হয়তো অনেকে  অস্বীকার করবে না। কিন্তু উপলব্ধির অভিঘাত একমাত্র মুসলমান হলেই বোঝা সম্ভব। এখানে চরম বামেদের বা লিবারেলদের অনুভূতির সাথে মুসলমানদের অনুভূতির মোটা পার্থক্য না থাকলেও সুক্ষ পার্থক্যের জায়গার উপস্থিতি অস্বীকার করার উপায় নেই।

যাইহোক ধান ভানতে শিবের গীত গেয়ে লাভ নেই। মোদ্দা কথায় আসি। লেখাটির মূল প্রসঙ্গ হলো শহর গ্রাম পাড়া আপনাদের সব কেনা নাকি বাবু? বাবুপাড়াই থাকতে হলে বাবুরা যা খায়, পরে, করে তা কেন করতে হবে? এতো ব্যক্তিগত মালিকানার ব্যাপারস্যাপার মনে হচ্ছে। আর যার সাথে মায়ের পুজোর চাঁদার জন্য হাত পাতছেন কাকভোরে তাকেই কিনা ‘কার্টুন পিস’, ‘কোথা থেকে এসে জুটেছে’ এসব তাচ্ছিল্য করেন। এখানে তো সব গোরাদের বাজার, বিহারি মুসলমানদের বাস ছিলো  শুনেছি। আপনারাই বা কোথা থেকে এসে আবর্জনা জুটেছেন?

আর এই আবর্জনাদের তৈরি মিডিয়ার মায়ের প্রচার দেখেন। কি অবাক কাণ্ড! দুর্গা পুজো সর্বজনীন নয়। এতো সবার জানা। যেমন সর্বজনীন নয় ইদ কুরবানি মহরম বা খ্রিস্টমাস। এতে মুষ্টিমেয়  বামুনদের আধিপত্য। আর যাদের যবন, ন্যাড়া, বলে গালি দেন, কয়েকদিন আগে এবং আজকের ডেটে যাদেরকে পাকিস্তানে, বাংলাদেশে বা ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানোর জন্য পারলে ধুতি পাজামা প্যান্ট শাড়ি খুলে ফেলেন তাদের কাছে হাত পাতেন কেন? হাত পাতা কোনো দোষের নয়। কিন্তু গালি দেন কেন? বাংলার কোনো স্কুলে গালিবিদ্যা, বিদ্বেষের এই পাঠ পড়ানো হয় বলে তো জানা নেই। তাহলে…? সে অনেক কথা বাকি। বাকি কথা থাক আজ বাকি। হবে কোন একদিন।

বাঙালি মুসলমানের উপর, বাংলার আপামর কৃষকদের উপর, পাহাড় জঙ্গলের জনজাতির উপর, দিন আনা দিন খাওয়া মেহনতি মানুষদের উপর এত বড় বাঙালি উৎসবের প্রভাব আছে কি?

September is the cruelest month for the poor,
Decay, diseases, hungry deaths make inroad into
The frayed limbs, dry breasts, hollowed eyes,
Empty yards! Lean days linger
Until they end with the plasma sunset.

হাতেগোনা চাকুরিজীবী বাঙালি মুসলমান একমাসের  বাধ্যতামূলক ছুটি উপভোগ করেন ঠিকই। বাদ বাকিরা  ডাক্তারের অভাবে ভুগতে থাকে। ডাক্তারবাবুরা তো সব ছুটিতে। আসলে  বাঙালির ভ্রমন তো অনেকাংশে পূজো কেন্দ্রিক। অফিসে বাবুদের উপস্থিতির হার ‘থিন’।স্কুল, কলেজ এক মাস ছুটি। বাবা মার, ছেলেমেয়েদের প্রাত্যাহিক ইঁদুর দৌড় থেকে বেশ কিছু দিন অবসর মেলে। মন্দ কি!

বাজার ও মিডিয়া এই সুযোগ রমরমা ব্যবসা শুরু করেছে। জনগণের সেন্টিমেন্টের দাম দিতে হবে তো!  তাই মুসলমানদের ঈদ ও কুরবানী, খ্রিস্টানদের বড়দিন বছরের পর বছর নীরবে আসে এবং নীরবে বিদায় নেয়। বেশিরভাগ লোক জানতেই পারেনা এই উৎসব গুলি সম্পর্কে। আর চার পাঁচ দিনের দুর্গা পূজো চার পাঁচ মাসের দৈনিক খবরের কাগজ, ম্যাগাজিন ও টিভির হেডলাইনস  এক্স-রে হয়ে আমাদের অস্থি ভেদ করে।

এসময় শহুরে ব্যবসায়ীরাও দু পয়সা এক্সট্রা কামানোর সুযোগ পায়। ভাগ্য পরিবর্তন হয় না হিন্দু ও মুসলমান গ্রামীন প্রান্তিক চাষিদের। জমির খাজনা, সারের দাম, মুনিষের পয়সা মিটিয়ে হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রমের পর ধান, পাট ঘরে তুলে দেখে ‘বাজার ভাল নয়।’ ছেলে মেয়েদের পূজোর নতুন জামা  প্যান্টের বায়না মেটাতেই কষ্টার্জিত ফসলের অনেকটা চলে যায়।আর যা পড়ে থাকে তা দিনে দিনে ‘নুন তেল মুদি’ খরচে ‘হাবিস’। আর ‘অসুখ বিসুখের’ কথা বাদই দিলাম। থালা বাটি ঘটি বিক্রি করে, গ্রামের বাবুদের কাছ থেকে বছরে ৩৬% হারে সুদ গোনে। সর্বনাশের  পথে পা দেয়। শুধু ‘বাজান’ ‘মাজান’ বা নিজের রক্তের সন্তানকে বাঁচাতে। আর মুসলমান চাষির পূজো এল কি গেল এ নিয়ে কোন মাথাব্যথা থাকে না। মা দুর্গা বাংলার কৃষকদের দিকে ঘুরেও তাকায় না। দেবীর  আশীর্বাদ না পেয়ে এরা নিজের অন্তিম জীবনীশক্তি দিয়ে জীবনযুদ্ধে অপরাজিত থাকার ব্যর্থ প্রচেষ্টা করতে করতে একদিন ‘স্বর্গে’র চিরশান্তি লাভ করে।

এভাবে বেঁধে বেঁধে থাকা যায় না। এত ছেড়ে ছেড়ে থাকার সুনিপুণ সুব্যবস্থা চারিদিকে। বাবুদের কাছে সমন্বয় সহমতের কোন মৌলিক ধারণা স্বাধীনতার আগে ও পরে আজও অধরা। সমন্বয় ততোদিন যতদিন আপনি বাবুদের ভ্যান টানবেন, চা, জল, ইডা সিডা বাড়িতে বয়ে দেবেন। দেখা হলেই মাথা নত করে সালাম ঠুকবেন। আসলে বাংলা ও বাঙালির  আত্মপরিচয়ে, [ব্যতিক্রম আছে বলেই তো দু-এক কথা লিখতে পারছি] এই বাবু শ্রেণির কোন অবদান নেই। এরা প্যারাসাইট। এরা ধান্দাবাজিতে নাম্বার ওয়ান। এরা সুবিধাবাদের থিয়োরি বাজারে আসার বহুযুগ আগে থেকেই এরা এর প্রাক্টিক্যালে সিদ্ধহস্ত। এছাড়া কলকাতাকেন্দ্রিক বাবু বুদ্ধিজীবীদের গ্রাম বাংলার সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার পথ ও পাথেয়, জীবন লড়াই সম্পর্কে কোনো পুর্নাঙ্গ এমনকি আংশিক ধারনাও নেই। আর সেসবের সঙ্গে তাদের সহমর্মিতাও নেই। এরা উন্মার্গগামী। ব্যক্তিস্বার্থের পরাকাষ্ঠা।

বাংলায় নতুন কিছু—রাজনীতি, শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি ইত্যাদি ভাবতে হলে চির সুবিধাবাদী বাবুদের বাদ দিয়েই ভাবতে হবে। আর না হলে কলুর বলদের মতো ঘানি টানতে হবে শ্বাস থাকা অবধি। আর শুনতে হবে মাঠে ঘাটে পথে প্রান্তরে বাসে ট্রেনে মলে স্টলে ‘গেয়ো ভূত!’ ‘ওছা মাল সব কোথা থেকে আসে!’ বা ‘কার্টুন পিস!’ এই তাচ্ছিল্যের ভাষা বাবুদের মজ্জাগত জন্মগত। নবাবদের দালালি এরা করেছে, বিশ্বাসঘাতকতাও করেছে, ইংরেজদের আগমনে এই শ্রেণি পুনর্জন্ম পেয়েছে। আর তারপর তো পার্টি-মঞ্চ-সংস্থা-কমিটি ক্লাব নির্বিশেষে এরাই ছলেবলে কৌশলে তাদের একছত্র আধিপত্য বজায় রেখেছে। লাল বা নীল, গেরুয়া বা সবুজ এলো কি গেলো তাতে বাবুদের কোন মাথাব্যাথার কারণ নেই। শুধু ছোটলোকেরা মাথা তোলার চেষ্টা করলে এদের গর্জন ও আস্ফালন দেখে কে! একথা মনগড়া নয়। সময় থাকলে সন্তোষ রাণার লেখা চেখে দেখতে পারেন। মুখে বলবো আয় বেঁধে বেঁধে থাকি, আর ভিতরে ভিতরে নিজেদেরকে সব ধরনের সুরক্ষার বেষ্টনীতে আবদ্ধ রেখে ‘পিছিয়ে রাখা জনজাতি’দের আরও কি কি ভাবে পিছিয়ে রাখা যায় তার সব জটিল অঙ্ক কশবো! এই ভণ্ডামি, এই দ্বিচারিতা আজই নিপাত যাক।

Facebook Comments