নিম্নবর্গীয় সমাজের প্রতিরোধকে ব্রাহ্মণ্যবাদীরা ভয়ই পাবে | The Background

Friday, April 23, 2021

Contact Us

Google Play

নিম্নবর্গীয় সমাজের প্রতিরোধকে ব্রাহ্মণ্যবাদীরা ভয়ই পাবে

নাজিব আনোয়ার

তথাকথিত শিক্ষিত ভদ্রলোকের ভাষায় তিনি হয়ত কথা বলেন না তাই ফেসবুক সহ সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে তাঁকে সমালোচনার ঝড় পোহাতে হচ্ছে। মূলধারা গণমাধ্যমগুলির কাছেও তিনি ব্রাত্য। কিন্তু নিম্নবর্গীয় সমাজের মনের কথা তিনি বলছেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসছে প্রান্তিক মানুষের কথা- দলিত, আদিবাসী, মুসলমান-সমাজের কথা।

তাই হয়তো শাসকদলেরও চক্ষুশূল তিনি। তিনি ফুরফুরা শরীফের পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকী।

বেশ কিছুকাল ধরেই সমাজ-রাজনীতির চেনাজানা ভাষ্যের বাইরে বেরিয়ে, খানিকটা চাঁচাছোলা ভাষায় বলছেন।সেই ভাষায় প্রকাশ পাচ্ছে দলিত-আদিবাসী-মুসলমানদের অভিযোগ-বঞ্চনার কথা। সেই ভাষ্য শহুরে-মার্জিত-পালিশ করা কথাবার্তার বিপ্রতীপ। বলা যায়, সেই ভাষ্য ধরাবাঁধা, ছক কষা সাংস্কৃতিক- রাজনৈতিক ভাষ্য যা ‘ব্রাহ্মণবাদী ফাঁদ’-এর দ্বারা পরিচালিত তারও বাইরে।

তাই তাঁর কথা হজম করা সহজ নয়। আর লিবারেল, সেক্যুলারদের এক বড় অংশের কাছে তো এটা এক প্রকট সমস্যা। বেশভূষায় টুপি-পাঞ্জাবী এবং দাড়ি নিয়ে তিনি যদি কোন সাধারণ ইস্যু নিয়েও আন্দোলনে নামেন, তাহলেও তিনি সাম্প্রদায়িক। এমনকি তিনি সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত বলে অভিযোগ উঠে আসে।

আবার মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলি, টিএমসি-বিজেপি-বাম/কংগ্রেস এই সোচ্চার কণ্ঠের প্রতিবাদী ধারাকে ভয় পাচ্ছে। তাদের ভিত নড়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি আব্বাস সিদ্দিকির ওপর দক্ষিণ ২৪ পরগণার ভাঙড়ে তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার সাঙ্গপাঙ্গদের হামলার প্রতিবাদ করেছে বাম-কংগ্রেস।কিন্তু লাল-সবুজও এদেরকে প্রয়োজনে ব্যবহার করেছে।

শওকত মোল্লার মতন মানুষদের মুসলমান সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে প্রজেক্ট করা হচ্ছে। পরে বলা হচ্ছে ‘ওরা তো ওরকমই’।

তৃণমূলের এই বিধায়ক আগে সিপিএম দলে ছিলেন। এখন শিবির পাল্টেছেন। অনেকে পাল্টেছেন। ভোট-রাজনীতিতে আদর্শের দিন শেষ। আদৌ কোনদিন ছিল কি? চিত্তরঞ্জন বনাম সুরেন্দ্রনাথের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ইতিহাস তো আমাদের জানা। রাজনৈতিক সমীকরণই শেষ কথা।

কিছুদিন থেকে এই বিধায়ক আব্বাস সিদ্দিকীর বিরোধিতা করছেন। গত রবিবার তাঁর কিছু অনুগামীর ওপর চড়াও হয় বিধায়কের লেঠেলবাহিনী। সোমবার আহতদের দেখতে গিয়েছিলেন তিনি। তখন আব্বাসও আক্রান্ত হন। গাড়ি ভাঙচুর হয়। তিনি এক বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। কোনমতে বেঁচে যান। সেই সব ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সবাই দেখেছে।

আসলে শওকত মোল্লারা ব্রাহ্মণ্যবাদী দলগুলির ক্রীড়নক। সমাজ রসাতলে গেলেও তাদের চিন্তা নেই, আখের গোছানো ছাড়া।

কিন্তু এই ধরাবাঁধা, পরতে-পরতে চেপে বসা ব্রাহ্মণ্যবাদী মানসিকতার শিকার আব্বাস সিদ্দিকী। আর লিবারেল-সেক্যুলাররা ঐ মানসিকতাকেই আঁকড়ে ধরে রাখতে চায়। তারা অঙ্ক কষে, কষতেই থাকে। কে বেশী গেরুয়া, কে কম।

এদিকে পড়ে পড়ে মার খায় প্রান্তিকে থাকা মুসলমান সমাজ। মার খায় দলিত-আদিবাসী সমাজ।

 

Facebook Comments