ট্রাম্প তালিবান তামাশা | The Background

Saturday, October 24, 2020

Contact Us

Google Play

ট্রাম্প তালিবান তামাশা

আবু সঈদ আহমেদ

সাম্রাজ্যবাদের গোরস্থান বলে পরিচিত আফগানিস্তান ঘিরে বিশ্বরাজনীতিতে এক চমকপ্রদ মোড় চলছে। ৯/১১ হানায় অভিযুক্তদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য যে তালিবানদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সেই তালিবান আজ আলোচনার টেবিলে। এর কারণ খুঁজতে গেলে আরও পেছনে তাকাতে হবে। রুশভীতির কারণে আফগানিস্তানে তাঁবেদার বসাতে চেয়েছিল ভারতের ব্রিটিশরাজ। সাময়িকভাবে সফল হলেও প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শেষে আধুনিকতাপন্থী আমানুল্লাহ খানের হাতে পর্যুদস্ত হয় ব্রিটিশ বাহিনী। কিন্তু আফগান সমাজের রক্ষণশীলতার সুযোগে বাচ্চা-ই-সাকা ক্ষমতা দখল করে। তারপর একের পর আধুনিকপন্থী সরকারে সোভিয়েত প্রভাব বিস্তৃত হয়। অন্যদিকে সোভিয়েতের প্রায় সব বন্দর শীতপ্রধান এলাকায়। কৃষ্ণসাগর দিয়ে বহির্বিশ্বের যোগাযোগপথও ন্যাটো সদস্য তুরস্কের দখলে। ভুট্টো আমলে বালোচিস্তানের বন্দর দিয়ে সোভিয়েতের বহির্বাণিজ্য চালানোর প্রস্তাবও ধাক্কা খায় আফগানিস্তানে কমিউনিস্ট খালক-পরচাম অন্তর্দ্বন্দ্বে সোভিয়েত হস্তক্ষেপে। মার্কিন সমর্থনপুস্ট জিয়াউল হকের আমলে শুরু হয় রক্ষণশীল আফগান, ভূমিসংস্কারে জমি হারানো সামন্ত ও মার্কিন-আরব-পাকিস্তানী মদত বনাম আফগান সরকারের সমর্থনে থাকা সোভিয়েত সেনাদের দশকব্যাপী সংগ্রাম। এই যুদ্ধের অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে সোভিয়েতসহ পূর্ব ইউরোপের সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার পতন ঘটে। আফগানিস্তানে কমিউনিস্ট সরকারের অবসানে শুরু হয় আফগান ইসলামী রাষ্ট্রের সরকার।

###

সৈয়দ মুজতবা আলি বিখ্যাত গ্রন্থ “দেশে বিদেশে”তে লিখেছেন, “আমি বললুম, ‘ভারতবর্ষের অংশ যখন হবেন না, তখন দয়া করে রাশানদের আপনারাই ঠেকিয়ে রাখবেন!’

সবাই সমস্বরে বললেন, ‘আলবৎ!'”

আফগানিস্তান থেকে সোভিয়েত বেরিয়ে গেলে সোভিয়েতবিরোধী গোষ্ঠীগুলির মধ্যে লড়াই শুরু হয়ে যায়। চারবছর লড়াইয়ের পর কমিউনিস্ট নাজিবুল্লাহ সরকার যখন যায় যায়, তখনই বাকিদলগুলির পরোয়া না করেই কাবুলের ওপর চড়াও হন গুলবুদ্দীন হেকমাতিয়ার। নাজিবুল্লাহর পতনের পড়েও আরেক গৃহযুদ্ধ চলতে থাকে উত্তর আফগানিস্তানসহ কাবুল ও তৎসংলগ্ন এলাকা দখলে রাখে আহমেদ শাহ মাসুদ ও বুরহানুদ্দীন রব্বানির উত্তরের জোট। দেশটির নয়া নাম হয় Islamic State of Afghanistan। এইসময়কার ব্যপক দুর্নীতি ও অপশাসনের ফলে পাকিস্তানের মাদ্রাসার ছাত্রদের নিয়ে তৈরি গোষ্ঠী শক্তি বাড়াতে থাকে। চারবছরের মধ্যেই ১৯৯৬এ কাবুল দখলে নিয়ে রাষ্ট্রসঙ্ঘের আশ্রয়ে থাকা নাজিবুল্লাহকেও মেরে ঝুলিয়ে দেয়। তালিবানদের প্রতি পাকিস্তানের বেনজির ভুট্টো সরকার ও রাজনীতিক ফজলুর রহমানের প্রছন্ন ও প্রকাশ্য সমর্থন উপেক্ষণীয় নয়। বিশেষত আফগানিস্তানের মধ্যে দিয়ে মধ্যএশিয়ায় পণ্য পরিবহনের জন্য তো বটেই।

তালিবান শাসিত আফগান ইসলামি আমিরাতের কঠোর ইসলামী শাসনব্যবস্থা ব্যাপক সমালোচিত হয়। বিশেষত, নারীদের চাবুক মারা, প্রকাশ্যে গুলিচালিয়ে মৃত্যুদন্ড, সর্বোপরি বামিয়ানের বুদ্ধমূর্তি ধ্বংস বিশ্বে আলোড়ন ফেলে দেয়। কিন্তু সব বদলে যায় ২০০১এর ১১ই সেপ্টেম্বরের বিশ্ববাণিজ্যকেন্দ্রে বিমানহানায়, যার জন্য আমেরিকা তালিবান আশ্রয়ে থাকা আলকায়েদাপ্রধান সৌদি ধনকুবের ওসামা বিন লাদেনকে দায়ী করে। তালিবান ওসামাকে মার্কিন হাতে তুলে দিতে রাজি না হওয়ায় শুরু হয় আক্রমণ। এইসময় মার্কিন জোটের আফগানিস্তান পরে পাকিস্তানের সব থেকে বড় নির্বাচনী সাফল্য পাওয়া নওয়াজ শরীফকে গদিচ্যুত করে ক্ষমতায় আসা দিল্লিজাত সেনাশাসক পারভেজ মুশারফ।

উপরের ছবি- এবছর ২৯ ফেব্রুয়ারি, কাতারের দোহা’য় মার্কিন সরকারের দূত জালমে খালেজাদ ও তালিবানদের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতা মুল্লা আবদুল গনি বারাদরের মধ্যে শান্তিচুক্তি সাক্ষর। মার্কিন Secretary of State মাইক পমপেও উপস্থিতিতে এই সাক্ষর হয়েছে/ এপি’র তোলা ছবি।

Facebook Comments