মাধ্যমিকে পাশের হার আরো বাড়ল; প্রথম দশে না এলেও আল-আমীনের ফলাফল সন্তোষজনক | The Background

Tuesday, August 11, 2020

Contact Us

Google Play

মাধ্যমিকে পাশের হার আরো বাড়ল; প্রথম দশে না এলেও আল-আমীনের ফলাফল সন্তোষজনক

এবছরে মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যাচ্ছে পাশের হার সবথেকে বেশি পূর্ব মেদিনীপুরে, ৯৬.০১ শতাংশ। এরপর আছে কলকাতা (৯২.১৩%) ও পশ্চিম মেদিনীপুর (৯১.৭৮%)।

এ বছর মাধ্যমিকে পাশের হার সর্বোচ্চ ৮৬.০৪ শতাংশ। গত বছরে ছিল ৮৫.৪৯ শতাংশ।

প্রথম দশে রয়েছে মোট ৫১ জন। ৬৯৪ নম্বর পেয়ে প্রথম হয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরের মহম্মদপুর দেশপ্রাণ বিদ্যাপীঠের ছাত্র সৌগত দাস। দ্বিতীয় হয়েছে দু’জন।তারা দুজনই মেয়ে। ফালাফাটা গার্লস হাইস্কুলের শ্রেয়সী পাল এবং কোচবিহারের ইলাদেবী হাইস্কুলের ছাত্রী দেবস্মিতা সাহা। তাদের দু’জনেরই প্রাপ্ত নম্বর ৬৯১।

এ বছর ১০ লাখ ৬৬ হাজার ১৭৫ পরীক্ষার্থী ছিল। পরীক্ষা কেন্দ্রের সংখ্যা ছিল ২৮৩৫। পরীক্ষা বাতিল হয়েছে ৭৩ জনের। গত বছরের চেয়ে ছাত্রীর সংখ্যা ১ লক্ষ ৩১ হাজার ৯৬১ জন বেশি।

দরিদ্র, পিছিয়ে পড়া মানুষদের স্বপ্নভূমি আল-আমীন মিশন প্রত্যেকবারের মতো এবারও ভালো ফল করেছে। প্রথম দশে না এলেও এখানকার কয়েকজন ছাত্রছাত্রী ভালই ফল করেছে। ১৫0৭ জন ছাত্রছাত্রী এবারে পরীক্ষায় বসেছিল মিশনের ৩৯ শাখা থেকে। ৩১০ জন ৯০ শতাংশ পেয়েছে। ১২১৩ জন পেয়েছে ৭৫ শতাংশ। ৬৭৭ নম্বর পেয়ে মিশনের মধ্যে প্রথম হয়েছে সুমাইয়া খাতুন। তার র‍্যাঙ্ক ১৪। সে বেলপুকুর শাখার ছাত্রী। এরপরই আছে পাথরচাপুড়ি শাখার ছাত্র আশিক ইকবাল। সে পেয়েছে ৬৭৬ নম্বর।

আখতারা পারভীন পেয়েছে ৬৭১। খলতপুর শাখার ছাত্রী সে। সে ডাক্তার হতে চায়।

মহম্মদ আজিম আরশাদ মহম্মদপুর শাখার ছাত্র। সে মিশনে পড়ছে ক্লাস ফাইভ থেকে। সে পেয়েছে ৬৬৮ নম্বর। সে হতে চায় বিজ্ঞানী।

নুরজামান শেখ সুগর শাখার ছাত্র। তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৬৫ নম্বর। তার বাবা মহিউদ্দিন শেখ কাজ করেন বীরভূমের নলহাটির কাছে এক পাথর খাদানে। অভাব ছিল নুরজামানের নিত্যসঙ্গী।জীবনের মোড় ঘুরে গেছে আল-আমীনে ভর্তি হয়ে। সে স্বপ্ন দেখছে ডাক্তারি পড়ার।

বাবা মারা যান ক্যান্সারে। তখন সে পড়ছিল ক্লাস সিক্সে। পরের বছর সেখ সানাউল ভর্তি হল আল-আমীন মিশনের মেদিনীপুর শাখায়। সে পেয়েছে ৬৬২ নম্বর। বাবা চেয়েছিলেন ছেলে ডাক্তার হোক। নিজেও ছিলেন গ্রামীণ ডাক্তার। বাবার ইচ্ছায় পূরণ করবে সানাউল। মা ফিরদৌসি খাতুন স্বনির্ভর গোষ্ঠীতে আছেন। অল্পস্বল্প রোজগার করেন।

সৌগত দাস (৬৯৪)। এবার মাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রথম।

মহম্মদ মিজানুর রহমান খান পেয়েছে ৬৫৯ নম্বর। বাবা চাষি, চাষ করেন নিজের ২ বিঘা জমিতে। শেখ নাসিবুদ্দিন আমিনের বাবাও চাষি। সে পড়াশুনা করেছে মেদিনীপুর শাখায়।

শেখ নাদিম আলির বাবা রাজমিস্ত্রি। সে পেয়েছে ৬৫২ নম্বর। মাসুদ মন্ডল পেয়েছে ৫৯৯ নম্বর। তার লক্ষ্য অন্যদের থেকে কিছুটা ভিন্ন। সে চায় আইপিএস অফিসার হতে।

কভার ফটোঃ আল-আমীন মিশনের সফল ছাত্রছাত্রীরা, মিশনের সাধারণ সম্পাদক এম নুরুল ইসলামের সঙ্গে।

Facebook Comments