ভিনসেন্ট ভ্যান গঘ: যাঁর দুঃখ চিরকালীন হবে | The Background

Tuesday, July 7, 2020

Contact Us

Google Play

ভিনসেন্ট ভ্যান গঘ: যাঁর দুঃখ চিরকালীন হবে

নাফিস আনোয়ার

১৮৯০-এর ২৯ জুলাই রাত একটায় মারা গেলেন ভ‍্যান গঘ( নাকি ফ‍্যান গৌ!)। দুদিন আগে পেটে গুলি লাগে তাঁর, যে গুলি তিনি নিজেই চালিয়েছেন বলে বারবার দাবী করে গেছেন তাঁর এই শেষ সময়ে। তার চারমাস আগে সাঁইত্রিশ পেরিয়েছিলেন ভ‍্যান গঘ। প‍্যারিসের প্রদর্শনীতে প্রথমবার উচ্চ প্রশংসিত হয়েছে তাঁর ছবি। ক্লদ মনে পর্যন্ত বলেছেন- সেই প্রদর্শনীর সেরা ছবি ভ‍্যান গঘেরই। তাহলে কেন এই চলে যাওয়া অকালে? সত‍্যিই কী তা আত্মহত্যা নাকি সাম্প্রতিক বই সিনেমার বয়ান অনুযায়ী অন‍্য কিছু ঘটেছিল সেদিন! ভিনসেন্ট ভ‍্যান গঘ নামটির এখন বিরাট চাহিদা। তাঁর নামে কিছু বেরোলেই লোকে কিনবে, খাবে গোগ্রাসে। কত গবেষণা, কত লেখা, কত সিনেমা! হায় ভিনসেন্ট, হায় অপয়া ভিনসেন্ট জীবদ্দশায় যা যা তুমি চেয়ছ তা তো হয়নি বরঞ্চ উল্টোটাই ঘটেছে বারবার। তুমিও ডুবে গেছ অন্ধকারে আর তোমার ক‍্যানভাস উদ্ভাসিত হয়েছে উজ্জ্বল রঙের ছটায়। আজ তুমি এক বাজার, বিরাট বড় এক বাজার। হয়ত এভাবেই তোমার স্বীকৃতি পাওয়ার কথা লিখে দিয়েছিলেন ঈশ্বর, সেই ঈশ্বর যার সাথে তোমার সম্পর্কটাও তোমার জীবনের মত পাল্টে পাল্টে গেছে সময়ে সময়ে।

এবছরেই At Eternity’s Gate সিনেমার জন‍্য সেরা অভিনেতার অস্কারের জন‍্য মনোনয়ন পেয়েছিলেন উইলিয়াম ডেফো, চরিত্রের নাম- ভিনসেন্ট ভ‍্যান গঘ। সত‍্যি অসাধারণ অভিনয়ে ডেফোর ভ‍্যান গঘ বড় জীবন্ত। সম্প্রতি শ্রীজাতও লিখেছেন এক অসাধারণ উপন্যাস ‘তারা ভরা আকাশের নীচে’ যাকে নিয়ে স্বপ্নসন্ধানীর নাটক তারায় তারায়-এ ভ‍্যান গঘের চরিত্রে অভিনয় করছেন অঞ্জন দত্ত। আবার সেই কবে ১৯৫৬ সালে ভ‍্যান গঘকে নিয়ে লেখা আরভিং স্টোনের ১৯৩৪-এর উপন‍্যাস  Lust for Life  অবলম্বনে সমনামের চলচিত্রে অভিনয় করে গোল্ডেন গ্লোব সেরা অভিনেতার পুরস্কার জিতেছিলেন কার্ক ডগলাস। এভাবেই, ঠিক এভাবেই যেন ভিনসেন্ট গঘ্ ফিরে ফিরে আসেন আমাদের মধ‍্যে যেভাবে প্রত‍্যেকবার মাটিতে পড়ে গিয়ে তিনি উঠে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন শুধু রঙ তুলি ক‍্যানভাসের ভরসায়। “In spite of everything, I shall rise again; I will take up my pencil, which I have forsaken in my great discouragement, and I will go on with my drawing.”… পারেননি, হেরে গিয়েছিলেন তিনি অবশেষে; নাকি জিতে গেলেন শেষমেশ।

আজ তাঁর ছবি Portrait of Dr. Gachet আছে পৃথিবীর সব থেকে দামী ছবির তালিকায়, সেই তালিকায় আছে আইরিশগুচ্ছ, সানফ্লাওয়ার, কৃষক রমণীসহ নয়টি ছবি, শুধু এই নয়টি ছবির বর্তমান মূল‍্য প্রায় নব্বই কোটি ডলার!  অথচ লোকটা ভাইকে লেখা চিঠিতে জানিয়েছিল- এখন তাঁর দিন কাটছে উপোস করে, খাবার কেনার পয়সা নেই, খাবারের আগে রঙ তুলি কিনতে হবে যে তাঁকে! সারাটা জীবনে তার ছবি কেনেনি প্রায় কেউ। একটিবার মাত্র চারশ ফ্রাঙ্কে তাঁর ‘লাল আঙুরক্ষেত’ ছবিটি কিনেছিলেন আরেক চিত্রকর আনা বস্। তাতেই কী আনন্দ ভ‍্যান গঘের! আবার নিজের অনিয়ন্ত্রিত একরোখা জীবনযাপন, নেশা, মাঝেমাঝেই ভায়োলেন্ট ব‍্যাবহার এবং মানসিক অস্থিরতাও তাকে ভুগিয়েছে আজীবন। বিধবা মাসতুতো বোন কী-র প্রেমে পাগল হয়ে আগুনের উপর হাত রেখে দিয়েছিলেন যতক্ষণ না সে হ‍্যাঁ বলে। লাভ হয়নি, ‘কী’ যে ঘৃণা করত তাঁকে! এই ভ‍্যান গঘই বেলজিয়ামের খনি অঞ্চলে ধর্ম প্রচারে গিয়ে গরীব মানুষের দুঃখ কষ্ট দেখে বিলিয়ে দেন সব কিছু। তাঁর এমন বাড়াবাড়িতে বিরক্ত চার্চ কর্তৃপক্ষ তাকেই বিদায় করে দেন কাজ থেকে। ব‍্যালেন্স বলে কিছু ছিল না জীবনে; রাগ চড়া, ভালোবাসা, বন্ধুত্ব সবেতেই জোর করতে গিয়ে হারিয়ে ফেলা সব কিছু। আবার এই মানুষটাই আঁকেন ফুলদানিতে রাখা একগুচ্ছ ফুল। ফুল বদলে যায়- সূর্যমুখী, চন্দ্রমল্লিকা, জিনিয়া কিংবা গ্ল‍্যাডিওলাতে; এক থেকে যায় ক‍্যানভাসের সজীবতা ফ্রেসনেস সুগন্ধ..

তাহলে ভ‍্যান গঘ্ কে! পাগলের মত এঁকে যাওয়া একের পর এক ছবি.. মাত্র কয়েকটা বছরের চুড়ান্ত সৃষ্টিশীলতা… আর পাগলামো পেরিয়ে কে তিনি! ভ‍্যান গঘের সেরা ছবিগুলির প্রায় সবকটিই তাঁর শেষ তিনবছরে আঁকা। তারপর এল সেই সাতাশে জুলাইয়ের রাত। Auvers-এর    Rauvoux Inn সরাইখানার দুতলার ঘরে যেখানে তিনি থাকতেন ধীর পায়ে সিঁড়ি দিয়ে উঠে গেলেন ভিনসেন্ট, অসংলগ্ন তাঁর পদক্ষেপ, হাত দিয়ে চেপে ধরে আছেন পেটটা। সরাইখানার মালকিন প্রশ্ন করলেন- কী হয়েছে কোনো সমস‍্যা! ভ‍্যান গঘ্ ক্ষীণস্বরে বললেন- না, মানে আমি… উত্তর শেষ হল না তাঁর। ঘরে ঢুকে বিছানায় শুয়ে যন্ত্রণায় কুঁকড়ে শুরু হল গোঁগানি। আওয়াজ পেয়ে সরাইখানার মালিক উঠে এলেন এবার। ভ‍্যান গঘ্ অবশেষে বললেন- আমি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছি নিজের পেটে গুলি করে। ঊনত্রিশে জুলাই ১৮৯০, প্রায় ত্রিশ ঘন্টা পর সব শেষ। ভ‍্যান গঘ তো রহস‍্যময়ী ‘মোনালিসা’ আঁকেননি, পিকাসোর মত আঁকেননি যুদ্ধবিরোধী কোনো ‘গোয়ের্নিকাও’! তবু সেই প‍্যারিস শহরের উপকণ্ঠে সে যুগের ছোট্ট গ্রাম Auvers আজ বিশ্ব পর্যটকের তীর্থক্ষেত্র হয়ে গেল কী করে! Arles-এর সেই হলুদ বাড়ি ভেঙে গেছে বিশ্বযুদ্ধের বোমায়। তবু সেই জায়গাটা দেখতে প্রতি বছর পর্যটকের ঢল নামে কেন! তাহলে ভ‍্যান গঘ্ আসলে কে!

ভ‍্যান গঘ্ আসলে এক আবেগ এক মিথ; ভ‍্যান গঘ্ এক বিস্ময়, ভ‍্যান গঘ্ অনন‍্য এক জিনিয়াস। আবার ভ‍্যান গঘ্ পাগল ভ‍্যান গঘ্ মাতাল। নিজের কান কেটে কাগজে মুড়ে উপহার দেন গনিকাকে, সেই কানে ব‍্যাণ্ডেজ বেধে আঁকেন সেল্ফ পোর্ট্রেট। যেমন আজকের ফেসবুক জেনরেশনের সুখ দুঃখ হাসি কান্না সমস্ত কিছু্র সাথে জড়িয়ে গেছে একটা সেল্ফি। মানসিক হাসপাতালের জানলা দিয়ে আকাশ দেখে যে মানুষ স্টারি নাইট আঁকে সে তো পাগলই, সৃষ্টিশীলতার চরমে মগ্ন এক উন্মাদ! At Eternity Gate এ ভ‍্যান গঘের চরিত্র বলেন- Sometime they call me mad but a grain of madness is the best of art.

শুধু ছবি আঁকলেই আমি ভালো থাকি, বারবার সহদোর থিওকে লিখছেন ভিনসেন্ট। আর এই থিও, ভিনসেন্টের একমাত্র কাছের মানুষ। বিস্ময়কর তাঁদের দুজনের সম্পর্ক। কী দেখেছিলেন এই বড়ভাইটির মধ‍্যে তিনি! যার কোনো বন্ধুত্ব বেশিদিন টেকে না, সমাজ যাকে বিপজ্জনক আখ‍্যা দিয়ে অভিযোগ জানায় কর্তৃপক্ষের কাছে তেমন এক অর্ধউন্মাদের প্রতি এত ভরসা কোথা থেকে পেলেন থিও! লাগাতার অর্থ সাহায‍্য করে গেছেন ভাইকে, যুগিয়েছেন মানসিক শক্তি, উদ্ধার করেছেন একের পর এক বিপদ থেকে, নিজের আর্ট ডিলারের পেশাকে কাজে লাগিয়ে ভাইয়ের ছবির স্বীকৃতি লাভের আশায় দরবার করে গেছেন এর ওর কাছে। থিওর টাকায় ভিনসেন্ট মদ খেয়েছেন, বেশ‍্যালয়ে গেছেন, তবু থিও পাশে থেকেছেন আজীবন। আর ভিনসেন্টের মৃত‍্যুর শোক সইতে না পেরে তাঁর মৃত্যুর মাত্র ছমাসের মধ‍্যে থিও ভ‍্যান গঘ্ নিজেও হারিয়ে গেছেন চিরতরে। সঙ্গত কারণেই তাঁর দেহ কবর থেকে তুলে Auvers -এ এনে শুইয়ে দেওয়া হয়েছে ভিনসেন্টের পাশে।

ভিনসেন্ট ভ‍্যান গঘের জন্ম দক্ষিণ নেদারল্যান্ডের নর্থ ব্রাবান্ট প্রদেশের গ্রাম জুনডার্থে ১৮৫৩ সালের ৩০ মার্চ।  পিতা থিওডোরাস ছিলেন চার্চের একজন মিনিস্টার, তাঁর মায়ের নাম অ্যানা কর্নেলিয়া। চার বছর পর তাঁর এই ভাই থিওর জন্ম হয়। মোটামুটি স্বচ্ছল পরিবার। আত্মীয়রা অনেকেই প্রতিষ্ঠিত । বহুবার তাঁরা ভ‍্যান গঘকে প্রতিষ্ঠিত করার জন‍্য নানাভাবে সাহায‍্য করেছেন। কিন্তু দিন যত এগিয়েছে অজানা পথে পাড়ি দেওয়ার নেশায় ভ‍্যান গঘ্ আলাদা করেছেন নিজেকে। “The fishermen know that the sea is dangerous and the storm terrible, but they have never found these dangers sufficient reason for remaining ashore.”

ভ‍্যান গঘ পৃথিবীর নির্জনতম মানুষ। তাকে বোঝেনি প্রায় কেউ, এক থিও ছাড়া। যাকে যাকে কাছে পেতে চেয়েছেন সেই হারিয়ে গেছে বা সরে গেছে জীবন থেকে। প্রথম ভালোবাসা ইউজিন পত্রপাঠ প্রত‍্যাখ‍্যান করেছে। মাসতুতো বোন বিধবা কী ফেরত দিলেন তীব্র ঘৃণা। Arles-এর বাড়িতে অন‍্যান‍্য চিত্রকরদের সাথে একসাথে থেকে চিত্রকরদের সমবায় গড়তে চেয়েছেন। পল গগ‍্যাঁ এলেনও থাকতে, সেই বাড়িতে আসা তিনিই প্রথম ও তিনিই শেষ চিত্রকর। মাত্র দুমাস থাকতে না থাকতেই ঝগড়া আর তারপর সেই কান কেটে ফেলার ঘটনা। গঁগ‍্যা পালিয়ে গেলেন বাধ‍্য হয়ে। অন‍্যদিকে নিজের সঙ্গে নিজের লাগাতার লড়াই যে লড়াই বারবার বিধ্বস্ত করেছে ভ‍্যান গঘকে। আবার ভ‍্যান গঘ উঠে দাঁড়িয়েছেন তুলি হাতে। জীবনের রঙ এক এক করে মুছে গেছে যত তাঁর ক‍্যানভাস তত উজ্বল হয়েছে রঙে। ড্রইং ও স্কেচ সহ তাঁর আকার পরিমাণ প্রায় দুহাজার। গমক্ষেত, আকাশ, গাছ, ঘর, চেয়ার মানুষের মুখ, ফুলদানি যা দেখেছেন আঁকতে চেয়েছেন সবই।

আর সেই হলুদ বাড়ি। তাঁর ছবিতেও হলুদের অধিক‍্য। সূর্যমুখী হলুদ, গমক্ষেত হলুদ, তারা ভরা আকাশের তারারাও হলুদ, হলুদ তার Arles-এর  বাড়িটাও। এত রঙ তবু কোথায় এক বিষন্নতা ছুঁয়ে আছে ছবিগুলোতে। আমাদের মত ছবির খুটিনাটি, ইম্প্রেশনিসজম-পোস্ট ইম্প্রেশনিজম না জানা মানুষদেরও কেন এত ভালো লাগে তাঁর ছবি! সেকি শুধু ভিনসেন্ট ভ‍্যান গঘের প্রতি আবেগ নাকি তা আমাদের প্রত‍্যেকের মনের অন্দরের গোপন কোণে সযত্নে লুকিয়ে রাখা কষ্টের হঠাৎ বিস্ফোরণের উচ্ছাস!

শিল্পের জন‍্য একজন মানুষ কতটা যেতে পারেন! কতটা চড়াই উতরায় পার হতে হয় তাকে! একাকীত্ব আর মনের গভীরের যন্ত্রণা নিয়ে ভ‍্যান গঘ এঁকে চলেন জুতো, চেয়ার, পোট্রেট, ফুলের বাগান, শস‍্যক্ষেত, রাতের তারাভরা আকাশ এবং Arles-এর সেই ঘর। একটা প্রয়োজনের তুলনায় ছোট অথচ লম্বা বিছানা, তাতে দুটো বালিশ, অল্প খোলা জানালা, দুটো চেয়ার, দেওয়ালে টাঙানো কয়েকটা ছবি। বড় একা লাগে ঘরটাকে। চেয়ারের ছবি দেখে মনে হয় একটু আগেই তিনি বসেছিলেন সেখানে, চেয়ারে ফেলে গেছে পাইপটা, কিন্তু কেন চলে গেলেন, কীসের এত তাড়া! তিনি কি আবার ফিরবেন, ফের বসবেন এসে চেয়ারে! ভাবতে ভাবতে ডুবে যাই তাঁর ছবিতে। এভাবেই ভ‍্যান গঘের ছবি এক ডাইমেনশন থেকে অন‍্য ডাইমেনশনে নিয়ে যায় ছবির দর্শককে। তার গমক্ষেতে একাকী কাজ করে কৃষক রমনী তার পোর্ট্রেটে বিষণ্ণ মানুষের মুখ।

এবং ভ‍্যান গঘের চিঠি! Dear Thio, An Autobiography of Vincent Van Gogh from His Letters বইয়ের সংকলক আরভিং স্টোন লিখছেন ভ‍্যান গঘের ছবি বাদ দিয়ে শুধু লেখক হলেও এই চিঠিগুলি হত মাস্টারপিস। আমরা ভাগ‍্যবান ভ‍্যান গঘের একজন থিও ছিল যেমন কাফকার ছিল ম‍্যাক্স ব্রড। থিও সযত্নে সংরক্ষিত করে রেখেছেন প্রত‍্যেকটি চিঠি। চিঠি নয় আত্মজীবনী, এক পাগল চিত্রকরের আর্তি, উচ্ছ্বাস, দ্বিধা, বিশ্বাস; ভিনসেন্ট ভ‍্যান গঘের মনের হদিস। বিশ্বসাহিত্যের অন‍্যতম শ্রেষ্ঠ উপাদান এই চিঠিগুলি যা নিয়ে আজও গবেষণার অন্ত নেই। ষোলশো পাতারও বেশি সেই অমূল‍্য দলিল।

I dream my painting and I paint my dream. একজন সৃষ্টিশীল মানুষ যার কাছে বেঁচে থাকার অর্থ সৃষ্টি করে যাওয়া। এভাবেই ভ‍্যান গঘ আর তাঁর সৃষ্টি এক হয়ে যায়। ভ‍্যান গঘকে দেখে খুব মনে পড়ে জীবনানন্দের কথা। প্রকৃতিপ্রেম দিয়ে নিজেদের ব‍্যক্তিগত শোক ট্র‍্যাজেডির সব ঢেকে দিয়েছেন দুজনেই। একজনের মাধ‍্যম শব্দ অন‍্যজনের রঙ। দুজনেরই মন বসেনি চাকরিতে। জীবনানন্দের একটিও উপন‍্যাস বের হয়নি জীবদ্দশায়, তিনিই চাননি। ভ‍্যান গঘের ছবিও বিক্রি হয়েছে হাতেগোনা। অথচ শিল্পের জন‍্য তাঁরা দুজনেই ছিলেন আপসহীন। মৃত্যতেও অনেকটাই একাকার অকালপ্রয়াত এই দুই জিনিয়াস। ভ‍্যান গঘ লিখছেন- If you truly love nature, you will find beauty everywhere.

ভ‍্যান গঘের শেষ ছবি সম্ভবত Wheatfield with crows… মেঘলা আকাশ, ঝোড়ো হাওয়া, উড়ে বেড়ানো কাক আর একাকী সোনালী হলুদ গমক্ষেত,ক‍্যানভাসের মাঝ দিয়ে চলে গেছে লালচে রাস্তা যার ধারগুলোতে সবুজ ঘাস । চিঠিতে ভ‍্যান গঘ লিখছেন They’re immense stretches of wheat fields under turbulent skies, and I made a point of trying to express sadness, extreme loneliness. অনেকে বলেন এই ছবিটি ভ‍্যান গঘের স‍্যুইসাইড নোট। সত‍্যি কিনা জানা যাবে না আর। শুধু জানি মৃত‍্যুশয‍্যায় শুয়ে চিরঘুমে ঘুমিয়ে পড়ার আগে ভ‍্যান গঘ্ থিওকে বলছেন- The sadness will last forever.

ঋণ:

  1. শ্রীজাত
  2. Lust for Life: Irving Stone
  3. Dear Theo, An Autobiography of Vincent Van Gogh: Edited By Irving Stone
  4. Wikipedia
  5. www.vangoghgallery.com 

 

Facebook Comments